Blog
সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়
গত কয়েক বছরে কত শিল্পীকেই না হারালো বাংলা ভাষা। কতবার অনুতাপ করেছি আমরা। কতবার বিস্ময়ে হতচকিত হয়েছি। স্তব্ধ হয়েছি অবাধ স্মৃতিগুলির সৌধ হয়ে ওঠায়। ব্যক্তিগত পাতায় প্রকাশ করেছি সেই শোকের অভিঘাত। শোক প্রকাশের মুখাপেক্ষী নয়, শোকের নিজস্ব ভাষা আছে। পৃথিবী থেকে একে একে যা কিছু খসে যায়, তাদের অভাব নিজস্ব শোকের পরিধি তৈরি করে। একটি পাতা কোথাও কীভাবে খসে পড়ল ঘাসের জীবনে তাঁর জন্যেও প্রকৃতি হয়ত কোথাও একটি শব্দে প্রকাশ করে যায় তাঁর শোকের বার্তা। তাই জীবের জন্ম মৃত্যু সবই পর্যায়ক্রমিক কোষীভূত সৃষ্টি ও ধ্বংস হলেও এই যুগপৎ আনন্দ আর দুঃখের মধ্যেই আমাদের তৃতীয় সত্তাটির বিচরণ। নিয়ন্ত্রক হিসেবে যদিও বা বিজ্ঞানের কিছুমাত্র হাত থাকে, তাঁর ব্যাপ্তি বা ধরন একেবারেই বায়বীয়। এ এমন বিয়োগনীতি যা সংখ্যাতত্ত্বের অজ্ঞেয়। এখানেই হয়তো বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা। এই সীমাবদ্ধতার অনুকুলেই ভাষার প্রকারান্তর। সুরের ওঠা নামা। ভৈরব আর মালকোষের আবেদন মুহূর্ত আর তাঁর স্পর্শকাতরতা। ‘কারুকৃতি’ অনলাইন পত্রিকার এলিজি সংখ্যাটি এই স্পর্শকাতরতার স্বাক্ষর। |

Related Posts
ভুল স্বর্গ
গল্প - ভুল স্বর্গ
লেখক - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
গল্পপাঠ করছে - পলাশ দে
বেহাগ
গল্প- বেহাগ
লেখক - সৌভিক গুহ সরকার
গল্পপাঠ করছে - পলাশ দে
রন্ধনশালা
গল্প- রন্ধনশালা
লেখক - বাসুদেব দাশগুপ্ত
পাঠ করছে - পলাশ দে
পল্লব গঙ্গোপাধ্যায়
"পাথরের ফুল" ---ধ্রুপদি অথচ স্বতন্ত্র এক নির্মাণ
একটা এলিজি বা শোক-গাথা বা শোক-কবিতা কেন লেখা হয়? অবদমিত শোকের ক্যাথারসিস? শিল্পশীলিত পথে অবরুদ্ধ বিষাদের শান্তায়ন? মৃত্যুর অনিবার্যতাকে মেনে নিয়ে এবং দুঃখবোধের সংপৃক্তিকে স্পর্শ করে অবশেষে প্রাণের উজ্জীবন? নাকি ব্যক্তিগত শোককে আশ্রয় করে বৃহত্তর এক সর্বজনীন দুঃখের আবহকে ছুঁতে চাওয়ার চেষ্টা করা? হয়তো এককথায় উত্তর হওয়া উচিত এলিজির উদ্দিষ্ট একসাথে সবগুলোই।
অবন্তিকা পাল
এলিজি
এত অহমিকা এত আয়োজন
হাহা চিৎকারে ওই ওরা যায়
মিছিল তো নয় সারি সারি মাথা
ক্ষমতার পায়ে সব অবনত
অর্ঘ্য রায়চৌধুরী
শঙ্খ ঘোষ : শ্রদ্ধাভাজনেষু
কে শেখাবে এরপর প্রান্তরে
দুলে ওঠা শষ্যের ভাষা
কে দেখাবে অন্ধকারের বুকে
অমিত চক্রবর্তী
সে এখন মৃত্যু নিয়ে নিরাপদ, নিশ্চিন্ত
ছবিটা পাঠিয়েছিল সে অ্যালবাম থেকে ছিঁড়ে—
চারদিকে তখন বরফের আস্তরণ, কথাগুলি
ঢাকা পড়ে যায় অসঙ্গতির মোহে। ফাঁক ফোকর থেকে
আমরা তখন দুরাশা কুড়িয়ে বেড়াই। কেঁপেছিল কি হাত তার
অরুণ কুমার দাঁ
ধূপের দীর্ঘশ্বাস
প'ড়ে আছে অক্ষর, তুমি নেই!
শব্দ খোঁজে তোমাকে
সারাদিন কেঁদে যাচ্ছে, শ্রাবণ মেঘ
বিদিশা সরকার
এলিজি
শুধু দূর ভাবি, কতদূর? কতদূর গেলে তবে
লেভেল ক্রসিঙে থামা দুরন্ত রাত
কোন সিগন্যালে থেমে গেছ, বাইরে জোনাকি রাত
চিরশ্রী দেবনাথ
কবিপত্নী
শহরে স্মরণসভা, ব্যথাকাতরতা
সেই স্মরণসভায় স্ত্রীদের যেতে নেই
কেউ এসে বলবে কবি তার খুব কাছের ছিল,
দেবাশিস ঘোষ
দিদিমাকে
তোমার সর্বহারা কাঁথায় রেখেছ হিরের মতো দুঃখী আমাকে
বলেছ ব্যাঙের কথা বিধবার একটিই ধন,
কুমীর থেকে ফের মানুষ না হতে পারা নদের চাঁদ
এলা বসু
অবেলার ঘুম
একটা ভারী ও শীতল কালো পর্দা নেমে আসে
আমরা উঠে পড়ি সন্তর্পনে
এ ওর মুখের দিকে চাই