চুপটি করে বসে থাকি অথবা কখনো হাঁটি আর কুড়োতে থাকি টুকরো ইতিহাসের পাতা। সমুদ্রের ছোবলে চাঁদকে ভাঙতে দেখলে ছবিটাকে কুড়িয়ে রাখি যেমন কুড়িয়ে রাখি ফেনা থেকে বেরিয়ে আসা ছোট ছোট কাঁকড়া। শরতের টুকরো মেঘ আর বলাকার দলের ম্যারাথন ভেসে চলা, গ্রহণে নেমে আসা অকাল সন্ধ্যায় পাখিদের ঘরে ফেরার ছবি, বালিয়াড়িতে সন্ত্রাসের সেই ছোটবেলার মৃত্যুর শুয়ে থাকা, হিরোসিমার কালো ধোঁয়া আর মৃত্যুর শবদাহ, লেলিহান টুইন টাওয়ার, সুনামির ঢেউ তোলা পুকুরের জল সব, সব ছবির ইতিহাসের টুকরো টুকরো পাতাগুলো জমিয়ে রেখেছি। প্রত্যেক ভালো খারাপের সময়ের পোশাক যখন খসে পড়ে মন তখন কুড়িয়ে নিয়ে জমা করে ঝুলিতে। এখনতো ঠাকুরমা, গল্পদাদুর আসরে কোন রূপকথার গল্পের আসর বসে না। সীতাদের পাতাল প্রবেশের নায়াগ্রা দৃশ্য এখন সৌন্দর্য, পাষাণ অহল্যারা এখনো অস্ত্র প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে, কৃষ্ণ-সখী কৃষ্ণার প্রতিজ্ঞার ট্রেলার কালবৈশাখীতে, রাধা-কৃষ্ণের মিলনের ছবি বসন্তের ফ্রেমে। শুধু তোমার কোনো ছবি রেখে দিতে চাইলেও পারিনি, প্রতি কুয়াশা মাখা ভোর-সন্ধ্যায় ইতিহাসের পদ্মপাতা থেকে টুপটুপ করে ঝরে গিয়েছ তুমি।
"পাথরের ফুল" ---ধ্রুপদি অথচ স্বতন্ত্র এক নির্মাণ
একটা এলিজি বা শোক-গাথা বা শোক-কবিতা কেন লেখা হয়? অবদমিত শোকের ক্যাথারসিস? শিল্পশীলিত পথে অবরুদ্ধ বিষাদের শান্তায়ন? মৃত্যুর অনিবার্যতাকে মেনে নিয়ে এবং দুঃখবোধের সংপৃক্তিকে স্পর্শ করে অবশেষে প্রাণের উজ্জীবন? নাকি ব্যক্তিগত শোককে আশ্রয় করে বৃহত্তর এক সর্বজনীন দুঃখের আবহকে ছুঁতে চাওয়ার চেষ্টা করা? হয়তো এককথায় উত্তর হওয়া উচিত এলিজির উদ্দিষ্ট একসাথে সবগুলোই।
সে এখন মৃত্যু নিয়ে নিরাপদ, নিশ্চিন্ত
ছবিটা পাঠিয়েছিল সে অ্যালবাম থেকে ছিঁড়ে—
চারদিকে তখন বরফের আস্তরণ, কথাগুলি
ঢাকা পড়ে যায় অসঙ্গতির মোহে। ফাঁক ফোকর থেকে
আমরা তখন দুরাশা কুড়িয়ে বেড়াই। কেঁপেছিল কি হাত তার